চট্টগ্রামের চিরায়ত খাদ্যসংস্কৃতির এক অনন্য স্মারক ‘মধুভাত’। সুগন্ধি চাল, জালা চালের গুঁড়া, নারিকেল ও তরল দুধের মিশ্রণে রাতভর ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা এই বিশেষ মিষ্টান্নটি কেবল একটি খাবার নয়, বরং চাটগাঁইয়া ঐতিহ্য ও অতিথি পরায়ণতার এক গভীর সাংস্কৃতিক প্রতীক। বিশেষ করে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসা পহেলা আশ্বিনে মধুভাত তৈরি ও স্বজনদের মাঝে বিতরণের রীতি আবহমানকাল ধরে চট্টগ্রামের গ্রামীণ ও নগর সংস্কৃতিতে জড়িয়ে রয়েছে।
ঐতিহ্যের এই স্বাদ ও মেজাজকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চট্টগ্রামভিত্তিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘লঙ্গরহানা’র উদ্যোগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত হয় দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মধুভাত বিতরণ কর্মসূচি।
বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে ষোলশহর স্টেশন এলাকায় জমে ওঠে তরুণ-তরুণী, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সাধারণ পথচারীদের উপচে পড়া ভিড়। আয়োজকদের কাছ থেকে ঐতিহ্যবাহী মধুভাত আস্বাদন করার পাশাপাশি রোদ-ছায়ার মিষ্টি বিকেলে মেতে ওঠেন প্রাণের আড্ডায়। প্রবীণদের স্মৃতিচারণ আর নবীনদের কোলাহলে পুরো স্টেশন প্রাঙ্গণ যেন রূপ নেয় চাটগাঁইয়া সংস্কৃতির এক মিলনমেলায়।
আয়োজক সংস্থা 'লঙ্গরহানা'র পক্ষ থেকে জানানো হয়, যান্ত্রিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা চট্টগ্রামের লোকজ সংস্কৃতি, প্রাচীন রান্নাবান্নার রীতি এবং সামাজিক মেলবন্ধনকে পুনরুজ্জীবিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। নগরবাসীকে বিনামূল্যে এই ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাম্য ও সৌহার্দ্যের এক সুন্দর বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
