নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ভয়াবহ চিত্র: সাজার হার মাত্র ৩%, খালাস ৭০%

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল প্রমাণ, সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। অন্যদিকে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন এবং প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে

এই তথ্য তুলে ধরা হয় রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত “ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রক্রিয়াগত প্রতিবন্ধকতা” শীর্ষক সেমিনারে।

বিচার বিভাগের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন,

“বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।”

তিনি আরও বলেন, বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে মানসিকতা, কাঠামো ও সক্ষমতা—এই তিন ক্ষেত্রেই উন্নয়ন জরুরি

আইনমন্ত্রী জানান, জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের বরাদ্দ প্রায় ২,২০০ কোটি টাকা, যা তুলনামূলকভাবে কম। তিনি বলেন,

“শুধু বিটিভির জন্য বরাদ্দ প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা, যা বিচার বিভাগের চেয়েও বেশি।”

গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গবেষণা উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুম। এতে দেখা যায়—

  • ৩২ জেলার ৪৬ ট্রাইব্যুনালে ৪,০৪০টি মামলা বিশ্লেষণ
  • নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গড়ে ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগে
  • প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার শুনানির তারিখ পড়ে
  • ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না

গবেষণায় বিচার বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়:

  • অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি
  • তদন্তে বিলম্ব
  • দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থা
  • সাক্ষী সুরক্ষার অভাব
  • ঘন ঘন সময় আবেদন

অতিরিক্ত চাপ ও মামলা পরিস্থিতি

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৪০ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন, যার মধ্যে প্রায় ৩ লাখ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা

তিনি বলেন, বিচারকের সংখ্যা কম থাকায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, বিচার ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে সমাজে সহিংসতা বাড়ছে। গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হন

মামলা ও তদন্ত প্রসঙ্গ

অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী জানান, আলোচিত তনু হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একজন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিলের আওতায় বিচার হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *