আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থমকে গেলেও নিজের জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র সংশয় নেই সাকিব আল হাসানের। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক একান্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দেশের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং বিশ্বাস করেন দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও দ্রুতই উঠে যাবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি আবারও বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতেন।
‘ভেবেছিলাম ভোট দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দেব’
সাকিব জানান, এবারের নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার প্রাথমিক চিন্তা তার মাথায় ছিল। মূলত নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতেই তিনি লড়তে চেয়েছিলেন। সাকিব বলেন, “আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, ওখানে (মাগুরায়) নির্বাচন করলেই আমি জিতব। মানুষ আমাকে ভোট দেবে, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। আমি তো এবারের নির্বাচন করতেও আগ্রহী ছিলাম। ভেবেছিলাম নির্বাচন করি, ভোটে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দিই।”
তবে শেষ পর্যন্ত কেন সরে দাঁড়ালেন, তার ব্যাখ্যায় সাকিব বলেন, “পরে ভাবলাম, আমাকে তো নির্বাচন করতে দেবেই না। এছাড়া দলেরও তো একটা সিদ্ধান্ত থাকে, সেটার বাইরে যাওয়া যায় না। নাহলে নির্বাচন করে দেখিয়ে দিতাম।”
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ
দলের দুর্দিনেও দল বদলানোর কোনো ইচ্ছা নেই সাকিবের। তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমার দল বদলানোর অভ্যাস নেই। এখন দল নিষিদ্ধ থাকতে পারে, কিন্তু কাউকে কি সারাজীবন নিষিদ্ধ করে রাখা যায়? এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।”
সাকিব বিশ্বাস করেন, দেশের একটি বিশাল অংশকে এভাবে চেপে রাখা সম্ভব নয় এবং এটি দেশের জন্য মঙ্গলজনকও হবে না।
ফেরার অপেক্ষায় ৩৯ বছর বয়সী তারকা
বর্তমানে দেশের বাইরে থাকা সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে আইনি জটিলতা ও নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলেও তিনি রাজনীতিতে ফেরার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহী। সময় এবং সুযোগ মিললে তিনি আবারও মাগুরার মানুষের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে চান।
