শিশু আয়াত হত্যা মামলার রায়: মূল আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে ২০২২ সালের আলোচিত পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে মূল আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস জনাকীর্ণ আদালতে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি মো. আবিরকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন জানান, ৩৩ জন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং জোরালো তথ্য-প্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর আদালত এই রায় দিয়েছেন, যা আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে।

আদালতের বাইরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে আয়াতের বাবা এবং মামলার বাদী সোহেল রানা বলেন, অবশেষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আগামী এক মাসের মধ্যে এই রায় কার্যকরের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বন্দরনগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত। পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে।

পিবিআই-এর তদন্তে এক রোমহর্ষক ও নৃশংস অপরাধের চিত্র বেরিয়ে আসে। আয়াতের পরিবারের ভাড়াটিয়া মো. আবির মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবির উদ্দেশ্যে বাড়ির নিচতলা থেকে শিশুটিকে অপহরণ করে। কিন্তু পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় সে আয়াতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর অপরাধ ধামাচাপা দিতে লাশটিকে কয়েক টুকরো করে কেটে স্থানীয় একটি খাল এবং সমুদ্র উপকূলে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিশুটির খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করে।

২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই মো. আবির এবং তার ১৭ বছর বয়সী এক সহযোগীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মো. আবিরের বিচার শেষ করে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো। অন্যদিকে, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সহযোগীর বিচারকার্য বর্তমানে শিশু আদালতে আলাদাভাবে চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *