চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিতের জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রসভা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, টানা বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও পটিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, কেবল সাতকানিয়াতেই লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
বিবৃতিতে ছাত্র নেতারা উল্লেখ করেন, এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে হাজার হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। বহু শিক্ষার্থীর বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক শিক্ষার্থীকে পরিবারের সাথে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে হচ্ছে, যার ফলে পড়াশোনার কোনো পরিবেশ নেই। এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলায় পরীক্ষার্থীরা ন্যূনতম প্রস্তুতিটুকুও নিতে পারছে না। এই বাস্তবতায় সকল পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।
জাতীয় ছাত্রসভা মনে করে, দুর্যোগকবলিত এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
“আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি—সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিত করা হোক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন সূচি অনুযায়ী এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হোক।”
একই সঙ্গে বিবৃতিতে দুর্যোগকবলিত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
