জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে আগের ক্ষমতাশালী সরকারের মতো বর্তমান সরকারকেও জনগণ সরিয়ে দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৩০ মার্চ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে (ডিএফপি) ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সরকারের উদ্দেশে সরাসরি হুশিয়ারি দিয়ে শহিদুল আলম বলেন:
‘আমরা ভিন্ন জিনিস আশা করি আপনাদের থেকে। আপনারা ভিন্ন কথা বলেছেন বলে জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু জনগণের সাথে প্রতারণা করবেন না। আপনারা যেটা বলে এসেছেন, সেটাকে আমরা বিশ্বাস করি বলেই আপনাদের আমরা সুযোগটা দিয়েছি। সেই জায়গায় আপনারা থাকতে চেষ্টা করেন। যদি সেটা আপনারা না পারেন, এর আগের এত ক্ষমতাশালী সরকারকে যখন হটানো গেছে, এই সরকারকেও হাটানো সম্ভব।’
ডিএফপি কার্যালয়ে পরিকল্পিত হামলা
গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় জুলাই আন্দোলনের তথ্যচিত্র নির্মাণের বকেয়া বিল আনতে গিয়ে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম-এর কক্ষের ভেতরে হামলার শিকার হন মানবাধিকার কর্মী মুশফিকুর রহমান জোহান, চলচ্চিত্র নির্মাতা মো. গোলাপ শাহ, আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন।
শহিদুল আলম এই ঘটনাকে একটি সাধারণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি বলেন, সরকারি অফিসের ভেতরে ঢুকে শিল্পীদের ওপর এই আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধ হামলা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ হারিয়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শহিদুল আলম বলেন, “কতটা ক্ষমতা থাকলে একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ উধাও করে দেওয়া যায়—এই প্রশ্ন আমাদের করতে হবে।” তিনি শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, বরং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও যোগ করেন যে, এটি কেবল ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং এটি শিল্পীর স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত।
ছয় দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে হামলার শিকার চলচ্চিত্র নির্মাতা মো. গোলাপ শাহ নিজের ওপর ঘটা নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
- ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত ও আইনের আওতাভুক্ত করা।
- হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার।
- গায়েব হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার।
- আহতদের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
- সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- সরকারি অর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণে সব ধরনের আর্থিক অনিয়ম বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন গবেষক রেজাউর রহমান (লেনিন), শিল্পী রীতু সাত্তার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহিন ফারুক আমিন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোশফিকুর রহমান।
