যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহের কথা বলে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে ১০ লাখ টাকার চুক্তি করত একটি প্রতারক চক্র। সম্প্রতি চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানতে পেরেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে লিখিত চুক্তি করত এবং জামানত হিসেবে প্রার্থীদের মূল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র রেখে দিত। পুরো টাকা না দেওয়া পর্যন্ত সনদ ফেরত দেওয়া হতো না। আর যারা আগাম টাকা পরিশোধ করতে পারতেন না, তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা ব্যাংকের চেকের পাতা নেওয়া হতো; যেখানে প্রতিটির বিপরীতে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লেখা থাকত।
গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ঢাকা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি আসল শিক্ষাসনদ, ৪০ জনের স্বাক্ষরযুক্ত ব্যাংক চেক ও চেকবই জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ, কম্পিউটার অপারেটর মো. জাহাঙ্গীর, কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম এবং চক্রের সদস্য মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এসআরবি ৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা মামলার ছায়া তদন্ত করছে এসআরবি। তিনি বলেন, “টাকা আদায় নিশ্চিত করতে চক্রটি স্ট্যাম্পে চুক্তি এবং মূল সনদ ও ব্যাংক চেক জিম্মি করার কৌশল ব্যবহার করত।”
