এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ, নয় মাসেই প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই–মার্চ) শুল্ক ও কর আহরণে প্রায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা, সেখানে আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা।

মার্চ মাসেই এনবিআরের জন্য ৬০ হাজার ৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থাকলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় ধরনের ব্যর্থতা থাকলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আহরণে প্রায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়—

  • কাস্টমস খাতে ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ব্যবধান রয়েছে
  • আমদানি শুল্ক আহরণ কমেছে প্রায় ৮.৮৫ শতাংশ
  • তবে ভ্যাট ও আয়কর খাতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ১৩.৬৬ শতাংশ ও ১১.২৫ শতাংশ

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি পর্যায়ে প্রত্যাশিত রাজস্ব না আসাই মূল ঘাটতির কারণ।

এ বিষয়ে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন,

“অর্থবছরের শেষ তিন মাসে রাজস্ব সাধারণত বাড়ে, তবে এবার লক্ষ্য পূরণ কঠিন হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন,

“বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খাতের প্রভাব রাজস্ব আহরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ না করলে চাপ মূলত করদাতাদের ওপরই বাড়বে এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় অসামঞ্জস্য তৈরি হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আইএমএফের রাজস্ব বৃদ্ধির শর্ত এবং এই বিশাল ঘাটতি মিলিয়ে এনবিআরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যা বাজেট বাস্তবায়নেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *