দেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতে ইতিহাস গড়ে সর্বোচ্চ নিট মুনাফা অর্জন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
ব্যাংকটির প্রকাশিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এর নিট মুনাফা ছিল ১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক বছরে মুনাফা বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। একই সময়ে এককভাবে ব্যাংকটির মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
গতকাল অনুষ্ঠিত ব্র্যাক ব্যাংকের ৩৯৩তম পর্ষদ সভায় ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি শেয়ারধারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন—
“২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের এই অর্জন দেশের ব্যাংক খাতের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এটি কোনো আকস্মিক সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সুশাসন ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছর ব্যাংকটির আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ শতাংশ এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশের বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAV) ২০২৫ সালের শেষে বেড়ে হয়েছে ৫১ টাকা ৫৬ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩৯ টাকা ৩৮ পয়সা।
দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে যেখানে গড় খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩১ শতাংশ, সেখানে ব্র্যাক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ২.২৭ শতাংশ, যা খাতভিত্তিকভাবে অন্যতম সর্বনিম্ন।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) খাতে বিনিয়োগ, ডিজিটালাইজেশন এবং শক্তিশালী সুশাসন এই সাফল্যের মূল কারণ।
পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন—
“স্বতন্ত্র পরিচালকদের নেতৃত্বে ব্যাংকটি সম্পূর্ণভাবে সুশাসন ও কমপ্লায়েন্স অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। এটি ব্যাংকের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ব্যাংক খাতে চলমান চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ব্র্যাক ব্যাংকের এই রেকর্ড মুনাফা একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
