জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা – জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ঢাকার দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর থার্ড টার্মিনাল—দীর্ঘ দেড় বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও গতি পেতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোরেলে ঠিকাদার নিয়োগ ও টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগ—উভয় ক্ষেত্রেই অগ্রগতি হয়েছে।
মেট্রোরেল প্রকল্পে অগ্রগতি
রাজধানীতে মেট্রোরেল নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাইকা ও ঠিকাদারদের মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে।
এমআরটি লাইন-১
- রুট: বিমানবন্দর–কমলাপুর ও নতুনবাজার–পূর্বাচল
- প্রাথমিক ব্যয়: ৫২,৫৬১ কোটি টাকা
- বর্তমানে:
- CP-02 ও CP-05 প্যাকেজ অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে
- ১২টি প্যাকেজে কাজ চলছে
- পিতলগঞ্জ ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ
প্রকল্প পরিচালক সারওয়ার উদ্দীন খান বলেন—
“দরপত্র প্রক্রিয়া এখন সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে।
আমরা দ্রুত একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছি।”
এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)
- রুট: হেমায়েতপুর–ভাটারা
- প্রাথমিক ব্যয়: ৪১,২৩৮ কোটি টাকা
- অগ্রগতি:
- ডিপোর কাজ সম্পন্ন ৭৭% এর বেশি
- মেইন লাইন ও উড়াল অংশে ঠিকাদার নিয়োগ → চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়
কেন থেমে ছিল প্রকল্প?
- ঠিকাদারদের প্রস্তাবে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি
- ব্যয়কে “অস্বাভাবিক” উল্লেখ করে পুনরায় দরকষাকষি
- জাইকা ও ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনা দীর্ঘায়িত
→ ফলে দরপত্র পর্যায়েই আটকে যায় কাজ
থার্ড টার্মিনাল: চালুর অপেক্ষায়
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর থার্ড টার্মিনাল এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রস্তুত থাকলেও অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় চালু হয়নি।
বর্তমান অবস্থা
- জাপানি কনসোর্টিয়াম অপারেটর হিসেবে চূড়ান্ত
- রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলমান
- নতুন সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত
বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন—
“থার্ড টার্মিনাল চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর
অথবা নতুন বছরের শুরুতে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
মাতারবাড়ী বন্দরেও অগ্রগতি
জাপানি অর্থায়নে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী বন্দর প্রকল্পের কাজও ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।
জাপানের প্রতিক্রিয়া
ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা বলেন—
“আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।
পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করি।”
“দেড় বছরের বিলম্ব অর্থনীতির ক্ষতি করেছে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া এসব সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।”
দেড় বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে জাপানি অর্থায়নের বড় প্রকল্পগুলোতে আবার গতি ফিরলেও, ব্যয় বৃদ্ধি, চুক্তি চূড়ান্তকরণ এবং বাস্তবায়ন—এই তিনটি বিষয় এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
