বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় অর্থ বিভাগের কঠোর শর্ত

বিদ্যুৎ খাতে বিপুল আর্থিক ঘাটতি মোকাবেলায় প্রতি মাসে বড় অংকের ভর্তুকি দিয়ে আসছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড – বিপিডিবি)। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ বিভাগ ভর্তুকি ব্যবহারে কঠোর শর্ত আরোপ করায় পুরো খাতের ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মার্চ মাসে বিপিডিবিকে দেওয়া ২,০৬৭ কোটি টাকার ভর্তুকি মূলত আইপিপি ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া পরিশোধে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নতুন শর্ত অনুযায়ী, এই অর্থ এখন আর আগের মতো বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

একটি সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, “ভর্তুকির অর্থ কেবল নির্দিষ্ট ৮৫টি আইপিপি ও ৯টি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিল পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে, অন্য কোনো খাতে নয়।” একই সঙ্গে বলা হয়, “সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনবিহীন কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র এই অর্থ পাবে না এবং আমদানি বিদ্যুতের বিল পরিশোধেও এটি ব্যবহার করা যাবে না।”

অর্থ বিভাগের শর্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিপিডিবিকে এখন থেকে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় রিয়েল টাইম ডেটা প্রসেসিং (ERP) সফটওয়্যার চালু করতে হবে, পাশাপাশি আইপিপি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর মাসভিত্তিক আর্থিক ক্ষতির আলাদা হিসাব জমা দিতে হবে। এছাড়া ক্যাপাসিটি চার্জ “যৌক্তিকভাবে কমানোর” নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“ভর্তুকির টাকা ছাড়ে অর্থ বিভাগ আগে কখনো এত শর্ত দেয়নি। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।”

বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন,

“এ ধরনের শর্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি বরাদ্দ ৩৭ হাজার কোটি টাকা হলেও প্রতি মাসে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বিপরীতে বিপিডিবি অতিরিক্ত আরও ২ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মোট বকেয়া ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে আমদানি বিদ্যুতের বকেয়াও প্রায় ৩,৮৯২ কোটি টাকা।

একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন,

“ভর্তুকি যদি নির্দিষ্ট খাতে সীমিত হয়ে যায়, তাহলে আমদানি বিদ্যুৎ ও বড় কেন্দ্রগুলোর বিল পরিশোধে সমস্যা তৈরি হবে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।”

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবি মনে করছে, নতুন শর্ত বাস্তবায়ন হলে অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ খাতের ক্যাশ ফ্লো ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *