জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জুলাই-পন্থীদের কৌশলগত ও রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জুলাই-পন্থীরা কালচার ও পলিটিকাল ইকোনমির ক্ষেত্রে ‘মধ্যবিত্ত প্রশ্ন’ মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাহফুজ আলম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিপ্লব ও রূপান্তরের স্তর না বুঝে ‘মুরব্বিদের’ উসকানিতে পা দিয়ে জুলাইয়ের তরুণেরা ঢাকা ও মফস্বলে নিজেদের মিত্রহীন করে তুলেছেন।
‘মুরব্বি’দের উসকানি ও মৈত্রীর সংকট
মাহফুজ আলম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, রূপান্তরের পর্যায়ক্রমিক ধারা বা স্তর বুঝতে না পারার কারণে আন্দোলনকারীরা ক্রমান্বয়ে একঘরে হয়ে পড়েছেন। তবে তরুণদের উসকানি দেওয়া সেই অভিভাবক বা মুরব্বিরা নিজেরা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই আছেন।
“বিপ্লব/রূপান্তরের ‘স্তর’ না বুঝে ‘মুরব্বি’দের উসকানিতে পড়ে তাঁরা ঢাকা শহর-মফস্বলকে ধীরে ধীরে নিজেদের জন্য মিত্রহীন করেছেন। সেইসব মুরব্বিরা ভালো আছেন।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সফলতার পেছনে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অংশগ্রহণ ছিল একটি অন্যতম প্রধান অনুঘটক। মধ্যবিত্ত সমাজ রাজপথে না নামলে এই আন্দোলনের পরিণতি আগের বড় কোনো দমনপীড়নের মতোই হতো। তাঁর ভাষায়, “মধ্যবিত্তের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই আরেকটা বড় আকারের ‘শাপলা’ হত।”
‘ম্যাক্সিমাম মিত্রতা’র আহ্বান
কৌশলগত ভুল এবং ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার কথা উল্লেখ করলেও জুলাইয়ের মূল চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন মাহফুজ আলম। জুলাইয়ের রাষ্ট্রকল্প বা নতুন রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন তরুণরা দেখেছিল, তাকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে অভীষ্ট দল ও শক্তির সাথে সর্বোচ্চ জোট বা মিত্রতা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
পোস্টের শেষে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখনো সময় আছে ম্যাক্সিমাম মিত্রতা তৈরি করে জুলাইয়ের রাষ্ট্রকল্পকে প্রধান করে তোলার।”
