জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অটক করেছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কোথায় ছিলেন তিনি?
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শিরীন শারমিন চৌধুরী জনসমক্ষে আসেননি। তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
এর আগে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিনে তিনি ও অন্যরা জাতীয় সংসদ ভবনের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা সকাল থেকে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। পরে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
এরপর থেকে নানা আলোচনা হয়, তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে চলে গেছেন। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
হত্যা মামলা
শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রংপুরে একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
- মামলাটি ২৭ আগস্ট ২০২৪ সালে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে দায়ের করা হয়
- মামলাটি করেছেন নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার (৩২)
- নিহত মুসলিম উদ্দিন (৩৮), পেশায় স্বর্ণশ্রমিক
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ছাত্র-জনতার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়, এতে মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মামলায় অভিযোগ রয়েছে, আসামিদের চাপে মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফন করা হয়।
অন্যান্য আসামি
মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এবং তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
