গণঅর্থায়নে নির্মিত ‘জুলাই ডায়েরিজ’ এর ট্রেলার প্রকাশ, প্রদর্শনী এ মাসেই

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে চট্টগ্রামের একদল তরুণের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘জুলাই ডায়েরিজ’। আজ ৯ই জুলাই (বৃহস্পতিবার) গণঅর্থায়নে নির্মিত এই বহুল প্রতীক্ষিত ছবিটির ট্রেলার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি জুলাই মাসেই চলচ্চিত্রটির পূর্ণাঙ্গ প্রদর্শনী শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছে এর নির্মাণ দল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর হাত ধরে এই কাজের সূত্রপাত হলেও তথ্যচিত্রটির ক্যামেরা ও নেপথ্যের নানা ভূমিকায় যুক্ত ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য তরুণ-তরুণী। সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘বোধ সংযোগ’-এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে আছেন সাইদুল ইসলাম এবং পরিচালনা করেছেন লিখন দত্ত।

কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের বড় অনুদানের ওপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, সাধারণ মানুষের ছোট ছোট আর্থিক সহায়তায় (ক্রাউডফান্ডিং) তৈরি হয়েছে এই ডকিউ-ফিল্ম।

বিকল্প এই অর্থায়নের কারণ ব্যাখ্যা করে পরিচালক লিখন দত্ত বলেন, “চলচ্চিত্রে একক কোনো বড় অর্থায়নের সঙ্গে সাধারণত নির্মাণের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের একটা বিষয় চলে আসে। যেহেতু এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ছবি এবং আমরা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রচারণার বাইরে গিয়ে আপামর জনতার প্রকৃত বয়ান ও স্মৃতি তুলে ধরতে চেয়েছি, তাই আমরা গণঅর্থায়নের পথ বেছে নিয়েছি।”

নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দীর্ঘ গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের কাজের মধ্য দিয়ে এই প্রজেক্টের যাত্রা শুরু হয়। অর্থ সংগ্রহের অংশ হিসেবে ‘বোধ সংযোগ’ নামে একটি বিশেষ ম্যাগাজিনও প্রকাশ করেন তারা, যা মূলত অর্থায়নে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে শুটিং এবং দীর্ঘ সম্পাদনার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখছে এই ডকিউ-ফিল্ম।

সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসের ২০ তারিখের নাগাদ চলচ্চিত্রটির প্রথম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতে পারে। অডিটোরিয়ামের চার দেয়ালে আটকে থাকা তথাকথিত ‘আর্টফিল্ম’ হিসেবে নয়, বরং এই ছবিকে দেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাদের।

প্রদর্শনীর পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাহী প্রযোজক সাইদুল ইসলাম জানান, “এই ছবির অর্থায়ন কোনো একক ব্যক্তির পয়সায় হয়নি, তাই প্রদর্শনীতেও আমরা সেই ধারাটি অক্ষুণ্ণ রাখতে চাই। আমরা দেশ-বিদেশের সর্বস্তরের আগ্রহীদের আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, পুরো জুলাই মাস জুড়ে দেশের মফস্বল, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি খেটে খাওয়া শ্রমিকদের মাঝে এই ছবির উন্মুক্ত প্রদর্শনী করা।”

অভ্যুত্থানের স্পিরিট, হাজারো শহিদ ও আহতদের ত্যাগ এবং এর রাজনৈতিক শিক্ষাকে ফ্রেমবন্দী করে দেশের সামগ্রিক স্মৃতিতে বাঁচিয়ে রাখার এই আহ্বান এখন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সর্বস্তরে। চলচ্চিত্র সংসদ, কালচারাল ক্লাব কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে যারা নিজ নিজ এলাকায় এর উন্মুক্ত বা সামাজিক প্রদর্শনী করতে চান, তাদের ‘জুলাই ডায়েরিজ’ টিমের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *