নরসিংদীর কিশোরী হত্যা: ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে’ সৎ বাবার হত্যার স্বীকারোক্তি, গ্রেপ্তার ৯

Narsingdi murder case

নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’ বিরক্ত হয়ে নিজের সৎ মেয়েকে হত্যা করেছেন তার সৎ বাবা আশরাফ আলী। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক।

পুলিশ সুপার জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে নিহত কিশোরীর সঙ্গে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮)-এর। ওই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের ১০ থেকে ১২ দিন আগে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পূর্বপরিকল্পিত হত্যার স্বীকারোক্তি

পুলিশ জানায়, নিহতের সৎ বাবা আশরাফ আলী আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি সৎ মেয়েকে নিয়ে সহকর্মী সুমনের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পথে একটি সরিষা ক্ষেতের কাছে পৌঁছালে তিনি মেয়ের গলায় পেছন দিক থেকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

হত্যার পর একই ওড়না দিয়ে মেয়ের দুই হাত পেছনে বেঁধে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের জানান, নূরা ও তার সহযোগীরা তার কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

জবানবন্দিতে আশরাফ আলী দাবি করেন, মেয়ের বিভিন্ন ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’ তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও সালিশের অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী ও গাফফারকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে শালিশ করে নিহতের পরিবারকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, প্রতিবেশী আইয়ুব ও ইছাহাক ওরফে ইছাককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত সবাই বর্তমানে ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রথমে অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন সৎ বাবা

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতয়ালীরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রথমদিকে নিহতের সৎ বাবা দাবি করেছিলেন, আগের রাতে বখাটে একটি চক্র তার মেয়েকে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। তবে তদন্তের একপর্যায়ে তার বক্তব্যের অসঙ্গতি ধরা পড়লে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *