দীর্ঘ ১৬ বছরের বিরতি শেষে আবারও আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। আগামী পবিত্র ঈদুল আজহার আগে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই এই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবারের পরীক্ষায় সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ঘোষণা দেন। অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি এবং মাদ্রাসার ইবতেদায়ি বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।
কোটা ও মেধাবৃত্তি বণ্টন
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৃত্তির কোটা বণ্টনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে:
- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ।
- বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন: মোট বৃত্তির ২০ শতাংশ।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “একই দেশে একই শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া উচিত। তাই একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে। তবে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে।”
বৃত্তির সংখ্যা ও টাকার পরিমাণ
এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ক্যাটাগরি | মোট সংখ্যা | সরকারি স্কুল | বেসরকারি/কেজি |
| ট্যালেন্টপুল (মেধা) | ৩৩,০০০ | ২৭,৫০০ | ৫,৫০০ |
| সাধারণ বৃত্তি | ৪৯,৫০০ | ৪১,২৫০ | ৮,২৫০ |
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ কোটায় প্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা করে পাবেন। এছাড়া উভয় ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীরা বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে অনুদান পাবেন। আগামীতে এই বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
ঐতিহ্যে ফেরা এবং সমালোচনা
২০০৯ সালে স্বতন্ত্র প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ করে পিইসি (PEC) পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া শুরু হয়েছিল। ১৬ বছর পর আবারও সেই পুরোনো ঐতিহ্যবাহী পরীক্ষা পদ্ধতিতে ফিরে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা পরীক্ষা কোচিং বাণিজ্য বাড়াতে পারে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি এই মুহূর্তে ঐতিহ্যগত এই পরীক্ষা বন্ধের পক্ষে নন, তবে প্রয়োজনে পরবর্তীতে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের কোনো সুবিধা কেড়ে নিতে চায় না, বরং বৃত্তির এই সুযোগ আরও বাড়ানোর জন্য কাজ করছে।
