অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।গত ১৭ অক্টোবর প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।সরকারের ভেতর এবং রাজপথের রাজনৈতিক দলগুলোতেও এই ঘটনা নিয়ে অস্বস্তি ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজে অস্ত্র উঁচিয়ে বা হাতে নিয়ে একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন, যার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।মন্ত্রিত্বের দায়িত্বে থেকে এভাবে সরাসরি অস্ত্র হাতে মাঠে নেমে অভিযান পরিচালনা করায় আইনগত বৈধতা ও শিষ্টাচার নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এ ধরনের সরাসরি আইন প্রয়োগকারী বা সংঘাতপূর্ণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা নিয়ে আইনবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যেও বিতর্ক শুরু হয়।
ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে বলা হয়, মন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ড ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের ইঙ্গিত দেয় এবং এটি তাঁর শপথ ভঙ্গের শামিল।এ ধরনের আচরণ সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করবে এবং সাধারণ মানুষ এটিকে ভালোভাবে নেয়নি।
সারł পরিস্থিতি ও তীব্র সমালোচনার মুখে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী অভিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনো জানানো হয়নি।
