ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যা: মূল উস্কানিদাতা বাবলু গ্রেপ্তার

দীপু চন্দ্র দাস

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত বাবলু মিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রোববার রাত ১১টার দিকে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাবলু ভালুকা উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁকে শনাক্ত করার পর এই অভিযান চালানো হয়।

আসামির ভূমিকা

প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশের ভাষ্যমতে, ১৮ ডিসেম্বর রাতে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস কারখানার গেটে জনতাকে উত্তেজিত করার পেছনে বাবলু প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।

  • তিনি কারখানার গেটে লোক জড়ো করে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে জনতাকে ক্ষিপ্ত করেন।
  • দীপুকে মারধর করে হত্যার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
  • পরবর্তীতে মরদেহ মহাসড়কে নিয়ে গিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় তিনি সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপুকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে মরদেহ ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্তে জানা গেছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগটি ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *