ছয় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মানববন্ধনের পর একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ। আজ সকালে মতিঝিল এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথমে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা মানববন্ধন করেন। এরপর গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে পাল্টা কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি থেকে এস আলমের গ্রেপ্তার, পাচার করা সম্পদ দেশে ফেরত আনা এবং ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের নতুন ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
পাল্টা কর্মসূচিতে বিভিন্ন ব্যানারে লেখা ছিল—
“ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে”,
“ব্যাংক দখলের কালো আইন বাতিল”,
এবং “এস আলম নো মোর”।
পাঁচ দফা দাবি
মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি নুরুন নবী পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন—
১. এস আলমসহ সব শীর্ষ ‘ব্যাংক লুটেরা’কে গ্রেপ্তার করে দেশীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে হবে।
২. ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল করতে হবে, যা ‘লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ’ তৈরি করছে বলে অভিযোগ।
৩. এস আলমের দোসর ও তথাকথিত ‘পটিয়া বাহিনী’কে পুনরায় সুযোগ দিলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে।
৪. কোনো অবৈধ দখলদার বাহিনীকে ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে।
৫. ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা দ্রুত ফিরিয়ে দিতে হবে, যাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক দখল নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
একই সঙ্গে সংগঠনটি আগামী ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে—
- লিফলেট ও পোস্টারের মাধ্যমে জনমত গঠন, পাশাপাশি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার জোরদার।
- বেকার যুবক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাবি প্রচার, বাজেয়াপ্ত তহবিল তাদের কর্মসংস্থানে ব্যবহারের আহ্বান।
- লুটেরাদের সহযোগীদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের কার্যক্রমের রেকর্ড সংরক্ষণ।
- মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে অর্থ পাচার ও লুটের তথ্য প্রকাশ।
- জেলা-উপজেলায় মানববন্ধন, সভা, সমাবেশ ও সেমিনার আয়োজন।
কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন,
“ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে” এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে “আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে”।
