চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে জ্বালানি সংকট থাকলেও তা মূলত বৈশ্বিক প্রভাবের ফল। তিনি জানান, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যারা দেরিতে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গতকাল সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন—
“সংকট নেই—এ কথা বলার সুযোগ নেই। সংকট দেশের বাইরে, যা সারা বিশ্বেই চলছে।”
তিনি আরও বলেন—
“জনগণের অসুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা অনেক দেরিতে মূল্য বৃদ্ধি করেছি, তাও খুবই সামান্য।”
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানির মূল্য মাত্র ১০-১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যেখানে অন্যান্য দেশে তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন—
“সরকার চলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। তাই আমাদের সবাইকে মিলে কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে।”
তিনি জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং শিল্পকারখানা সচল রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, সরকার জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করছে এবং বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে কাজ করছে।
“দেশ তো সবার। আমরা যা করছি, স্বচ্ছতার সঙ্গে করছি—এখানে লুকোচুরির কিছু নেই।”
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
“উচ্ছৃঙ্খল কিছু ব্যক্তি সবসময় থাকে। আইন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন—
- ২৩0 বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে
- ব্যাংক খাত “লুটপাট করে ধ্বংস” করা হয়েছে
“মানুষ তাদের জমা টাকা তুলতে পারছে না—এর চেয়ে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না।”
তিনি জানান, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সময় লাগবে এবং সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অন্যান্য অতিথিরা।
