দেশের ছয় সিটিতে নতুন প্রশাসক: সবাই বিএনপির শীর্ষ নেতা

ছয় সিটি প্রশাসক

অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগকৃত প্রশাসকদের সরিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে নবগঠিত বিএনপি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত ছয়জনই বিএনপির প্রভাবশালী রাজনীতিক। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক মেয়রদের সরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এখন সেই স্থলাভিষিক্ত হলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বর্ষীয়ান নেতা আবদুস সালাম। তিনি এক সময় অবিভক্ত ঢাকা সিটির ডেপুটি মেয়র ছিলেন। বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পদে রয়েছেন। তিনি মো. মাহমুদুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্ব পেয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি সুরাইয়া আখতার জাহানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

ঢাকার বাইরের চার সিটি

অন্যান্য সিটি করপোরেশনে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন:

  • খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি): বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনার নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি মোখতার আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
  • গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি): গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার এই সিটির নতুন প্রশাসক। তার পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে গাজীপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত। তিনি শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
  • নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (এনসিসি): আলোচিত সাত খুনের মামলার আইনজীবী এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান এই সিটির দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
  • সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিসি): সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। তিনি খান মো. রেজা-উন-নবীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিলেও তার আগেই এই রাজনৈতিক নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *