বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি যদি চায় তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, তবেই তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকবেন; অন্যথায় নিজেই ‘সম্মানজনকভাবে’ সরে যাবেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। শনিবার সাক্ষাৎকারটির শেষ অংশ প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি তার মেয়াদ, বিদেশি গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন।
পদত্যাগ ও বিএনপি প্রসঙ্গে
বিএনপি যদি নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চায় বা অভিশংসনের পথে হাঁটে, তবে তিনি কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “ওগুলো কেন হতে দেব? আমি একজন সচেতন মানুষ। যদি তারা মনে করে আমি থাকি, তাহলে আমি থাকব। আর যদি বলে যে, সরে যাওয়া ভালো; তাহলে আমি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে যাব।”
রয়টার্সে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে তার দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে তাকে যে ধরনের ‘মানসিক চাপ’ ও ‘অপমান’ সহ্য করতে হয়েছে, সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি চলে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।
তিনি স্পষ্ট করেন, “আমি সাংবিধানিকভাবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত। তবে আমি এটাও বলেছি, যদি একটি নির্বাচিত সরকার আসে এবং তাদের অভিপ্রায় থাকে যে আমি না থাকাই ভালো, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় সরে যেতে প্রস্তুত। আই লাভ টু গো।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে মূল্যায়ন
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “দেখলাম যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি ওনার মধ্যে আছে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’—এই কয়দিনের যে কার্যক্রম, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়।”
তারেক রহমানের বাবা (জিয়াউর রহমান) রাষ্ট্রপতি এবং মা (খালেদা জিয়া) তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ধমনীতে ‘মুক্তিযোদ্ধার রক্ত’ থাকায় তিনি দেশের মঙ্গল করবেন এবং আলোকবর্তিকা হয়ে সামনে এগিয়ে যাবেন।
জরুরি অবস্থা জারির চাপ ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, ওই সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে তার ওপর ‘জরুরি অবস্থা’ জারির জন্য প্রচণ্ড চাপ ছিল। এমনকি একটি ‘প্রতিবিপ্লব’ ঘটানোর উদ্যোগও ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সেই সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী চাইলে মার্শাল ল (সামরিক আইন) দিতে পারত, কিন্তু তারা সঠিক সময়ে সঠিক ভূমিকা পালন করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
