ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তহবিলে টাকার পরিমাণ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক বিশাল রহস্য। নতুন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ-এর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে নগর ভবনের অন্দরে। ১২৬০ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে এই টানাপোড়েন এখন সাধারণ নাগরিকের মনেও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে—আসলে সত্যটা কী?
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন-এর ভাষ্য: কোষাগার শূন্যপ্রায়?
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন করপোরেশনের আর্থিক অবস্থাকে ‘ভঙ্গুর’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্যমতে, বর্তমান তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে তহবিলে টাকার টান, অন্যদিকে ১৪৭০ কোটি টাকার বিশাল অংকের টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে। তার দাবি, মাসে বেতনবাবদই খরচ হয় ১৩ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি বড় ধরনের সংশয় প্রকাশ করেছেন।
মোহাম্মদ এজাজের পাল্টা জবাব: সমৃদ্ধ ডিএনসিসি রেখেছি
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মুখ খোলেন সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তিনি তার বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তার এক বছর মেয়াদী দায়িত্বের শেষ দিনে (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে এসেছিলেন।
মোহাম্মদ এজাজ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
- দায়িত্ব হস্তান্তরের দিনে ডিএনসিসির ২৬টি অ্যাকাউন্টে মোট জমা ছিল ১২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬০ পয়সা।
- তিনি দাবি করেন, একটি সমৃদ্ধ ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী সিটি কর্পোরেশন তিনি রেখে এসেছিলেন।
- নতুন প্রশাসনের সাফল্য কামনা করলেও, নিজের দায়িত্বকালে আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি ছিলেন অনড়।
রহস্যের কিনারা কোথায়?
একদিকে ১২৬০ কোটির surplus দাবি, অন্যদিকে ২৫ কোটির বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতা—এই দুইয়ের মাঝে বিশাল এক ফারাক। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এই অর্থের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে? নাকি হিসাবের খাতায় গরমিল রয়েছে? নাকি ১৪৭০ কোটি টাকার ওয়ার্ক অর্ডারের প্রভাবেই তহবিলের এই দশা?
নগরবাসীর জন্য এই মুহূর্তে বড় প্রয়োজন স্বচ্ছতা। একদিকে দায়বদ্ধতা, অন্যদিকে দায়িত্বের এই লড়াইয়ে ডিএনসিসির আর্থিক প্রতিবেদনটি এখন জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই রহস্যের জট না খুললে নগর উন্নয়নের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।
