ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরমে: তেহরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন যৌথ হামলা

তেহরানে হামলা

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে একটি “প্রতিরক্ষামূলক” (pre-emptive) সামরিক হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সমাধানের আশা ক্ষীণ করে তুলেছে।

হামলার মূল ঘটনাবলী

  • যৌথ সামরিক অভিযান: বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলের পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীও এই অভিযানে অংশ নিয়েছে।
  • লক্ষ্যবস্তু: তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।
  • প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই “প্রতিরক্ষামূলক” হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটনের সাথে কয়েক মাস ধরে আলোচনার পরই এই অভিযানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
  • আকাশপথ ও জরুরি অবস্থা: ইসরায়েল তার আকাশপথ বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়াও দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং জনসাধারণকে সুরক্ষিত স্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
  • নেতৃত্বের নিরাপত্তা: নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

গত জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী আকাশ যুদ্ধের পর এই নতুন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা চললেও তা ব্যর্থ হয়।

  • ইসরায়েলের দাবি: ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে যে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস এবং তাদের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে।
  • ইরানের অবস্থান: অন্যদিকে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমিত আলোচনার কথা বললেও, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখে এবং এতে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

পশ্চিমা শক্তিগুলোর আশঙ্কা, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। ইরান অবশ্য বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান এই হামলার জবাবে কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেয় কি না, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষেত্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *