কর্ণফুলী টানেল: যেভাবে একটি স্বপ্নের প্রকল্প জনগণের গলার কাঁটা হয়ে উঠল

রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কোটি কোটি টাকার লুটপাট এবং প্রতিদিনের নিরন্তর লোকসান

শুরুতে একটু পেছনে ফিরি

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বেশ ঘটা করে উদ্বোধন হয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম নদীর তলদেশের টানেল। নাম রাখা হয়েছিল “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল”। শেখ হাসিনার সরকার একে নিজেদের “মেগা উন্নয়নের” সবচেয়ে গর্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিল। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও আনোয়ারাকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে যুক্ত করা এই ৩.৩২ কিলোমিটার টানেলটি প্রকৌশলের দিক থেকে হয়তো সত্যিই একটি বড় কীর্তি। কিন্তু অর্থনৈতিক যুক্তি আর জনস্বার্থের বিচারে এটি একটি অত্যন্ত লজ্জাজনক গল্প।

উদ্বোধনের আড়াই বছর পার হয়ে গেছে। এখন আর লুকানোর উপায় নেই যে এই প্রকল্পটি শুরু থেকেই ঠিকঠাক পরিকল্পিত ছিল না, এবং এর পেছনে চলেছে বিশাল দুর্নীতি, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা আর চীনা ঋণের মরণফাঁদ।

কেন তৈরি হয়েছিল এই টানেল

সরকারের দাবি ছিল, চীনের সাংহাই শহরের আদলে চট্টগ্রামকে “ওয়ান সিটি টু টাউন” মডেলে গড়ে তোলা হবে। কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে, আর টানেল সেই সংযোগের কাজ করবে। শোনাতে দারুণ লাগে, তাই না?

মোট ব্যয় হয়েছে ১০,৬৮৯ কোটি টাকা, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নির্মাণ করেছে চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি), আর অর্থায়ন হয়েছে চীনা ঋণ ও সরকারি তহবিল মিলিয়ে।

ফিজিবিলিটি স্টাডি বলেছিল, উদ্বোধনের প্রথম বছরেই দিনে ১৮,৪৮৫টি যানবাহন চলবে। ২০২৫ সালের মধ্যে তা ২৮,০০০-এ পৌঁছাবে। এই হিসাবের উপর ভরসা করেই পুরো প্রকল্পের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কী হলো? সেই গল্পটাই আসল।

সংখ্যায় যা আছে তা মিলিয়ে নিন

যানবাহন চলাচলের হালচাল

সূচকযা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলযা আসলে হচ্ছে
দৈনিক যানবাহন (প্রথম বছর)১৮,৪৮৫টি৩,৯১০টি
দৈনিক যানবাহন (২০২৫)২৮,০০০টি৩,৮৭০টি
মোট যানবাহন (প্রথম দুই বছর)প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ২৮ লাখ ২১ হাজার

লক্ষ্যমাত্রার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ যানবাহন চলছে। তার উপর যেসব গাড়ি চলছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ছোট গাড়ি। ভারী পণ্যবাহী যান তেমন একটা নেই। ফলে টোলের আয়ও প্রত্যাশার ধারেকাছে নেই।

আয়-ব্যয়ের যে হিসাব মাথা ঘুরিয়ে দেবে

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) এবং দুদকের তদন্তে যে তথ্য বেরিয়েছে সেটা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো।

প্রথম দুই বছরে (অক্টোবর ২০২৩ থেকে অক্টোবর ২০২৫) মোট টোল আদায় হয়েছে ৮০ কোটি ৫ লাখ টাকা। দিনে গড় আয় মাত্র ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। কিন্তু দৈনিক পরিচালন ব্যয় ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। মানে প্রতিদিন সরাসরি ২৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকা লোকসান।

প্রথম ২২ মাসের হিসাব আরও স্পষ্ট। রক্ষণাবেক্ষণ ও আনুষাঙ্গিক ব্যয় হয়েছে ২০৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, টোল এসেছে মাত্র ৬৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। নিট লোকসান ১৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মাসে মাসে গড়ে ৬ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৮ কোটি টাকা ঘাটতি সামলাতে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।

এই লোকসান প্রতিদিন পূরণ হচ্ছে জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে। অর্থাৎ নাগরিকরা দুইভাবে মার খাচ্ছেন। প্রথমত, তাঁদের করের টাকায় টানেল তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রতিদিন ভর্তুকি দিয়ে সেটা চালু রাখা হচ্ছে।

নির্মাণ খরচ উঠে আসতে কত বছর?

বর্তমান আয়ের হারে কথা বলি। দিনে ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আয় হলে ১০,৬৮৯ কোটি টাকার নির্মাণ ব্যয় উঠে আসতে লাগবে প্রায় ২৭ বছর। আর সেটাও কোনো সুদ বা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ছাড়াই। সুদসহ হিসাব করলে সংখ্যাটা আরও ভয়াবহ হবে।

কেন এত কম গাড়ি চলছে এই টানেলে

শাহ আমানত সেতু আগে থেকেই আছে

কর্ণফুলীর উপর দিয়ে শাহ আমানত সেতু অনেক আগে থেকেই বহাল তবিয়তে চালু। চালকরা টোল দিয়ে অন্ধকার টানেলে না গিয়ে খোলা সেতু দিয়ে পার হতেই স্বস্তিবোধ করেন। টানেলের একমুখী চলাচল আর দীর্ঘ পথও অনেককে নিরুৎসাহিত করে।

টানেলের ওপারে যাওয়ার কারণই নেই

টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে প্রতিশ্রুত শিল্পাঞ্চল, এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা বড় কোনো বসতি গড়ে ওঠেনি। ফলে টানেল দিয়ে গিয়ে মানুষ যাবে কোথায়? টানেলটি বলতে গেলে একটি শুনশান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এত কোটি কোটি টাকা ঢেলে আগে সংযোগ তৈরি করা হলো, কিন্তু যে কারণে সংযোগ দরকার সেই কারণটাই তৈরি হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা আগেই বলেছিলেন

প্রকল্পের শুরু থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, শাহ আমানত সেতু থাকতে সমান্তরাল একটি টানেল বানানোর অর্থনৈতিক যুক্তি দাঁড়ায় না। সেই কথা কেউ শোনেনি।

তারেক রহমান যা বললেন সিএজির অডিট রিপোর্ট নিয়ে

২০২৬ সালের ১১ মে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অডিট রিপোর্টের বরাত দিয়ে কর্ণফুলী টানেলসহ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির তথ্য সামনে আনেন।

কর্ণফুলী টানেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন:

“কর্ণফুলী টানেল থেকে বের হওয়া বা ঢোকার আগে দুপাশে গাছ লাগানোর কথা ছিল। অডিটর জেনারেল কোনো গাছ পাননি। এই গাছের জন্য ৫০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে চলে গেছে।”

তিনি আরও জানান, টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে কোনো প্রয়োজন ছাড়াই “খুব স্ট্যান্ডার্ড, বেশ লাক্সারিয়াস” অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবন বানানো হয়েছে, যেখানে কয়েকশো কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন:

“আমি এটা রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করছি না, বাস্তবতা উপস্থাপন করছি। আমরা দেশের নাগরিক, আমাদের সন্তানরা এখানে বড় হচ্ছে, তাই এই কথাগুলো বলছি।”

তিনি সতর্ক করেন, এসব অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ঋণের বোঝা এখন ২০ কোটি মানুষের ঘাড়ে।

দুদকের মামলায় যে দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে

২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

মামলার বাকি তিন আসামি হলেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হয়েছিলেন), বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমদ এবং সাবেক পরিচালক আলীম উদ্দিন আহমেদ।

তিনটি কাজ যা হওয়ার কথা ছিল না

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, মূল প্রকল্পে নেগোসিয়েশন কমিটির নির্ধারিত মূল্য এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞের সুপারিশ উপেক্ষা করে তিনটি অতিরিক্ত কাজ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

অপ্রয়োজনীয় খাতঅভিযোগ
পরিষেবা এলাকা (Service Area)বিশেষজ্ঞ সুপারিশ ছাড়াই অন্তর্ভুক্ত
পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার (Observation Software)অতিমূল্যায়িত ও অপ্রয়োজনীয়
টাগবোট (Tugboat)প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন

এই তিন খাতে মোট ৫৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা (৫৯.৮০ মিলিয়ন ডলার) আত্মসাৎ ও অপচয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে আরও যা বেরিয়েছে

একটিমাত্র প্রকল্পের জন্য ৩৮টি পৃথক নথি তৈরি হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। তদন্তকারীরা স্পষ্ট বলেছেন, এটি “বাস্তবসম্মত নয়”, এবং তাঁরা মনে করছেন অসৎ উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের সোলভান অ্যাসোসিয়েটস কোম্পানির বিদেশি বিশেষজ্ঞ ২০১৫ সালে যে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, তাও সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়। এর পাশাপাশি ব্যক্তিভিত্তিক পরামর্শক নিয়োগে সরকারি ক্রয় আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

আর গাছ লাগানোর নামে ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল, কিন্তু কোনো গাছ লাগানো হয়নি। এটা এখন সিএজির অডিটে প্রমাণিত।

মামলায় দণ্ডবিধির ১২০বি, ৪০৯, ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

শুধু টানেল নয়, একটা বড় প্যাটার্নের অংশ

তারেক রহমান কর্ণফুলী টানেলের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পদ্মা সেতুতেও একই ধরনের দুর্নীতির চিত্র সামনে আনেন। প্রতিবেশী দেশে একই মাপের পারমাণবিক প্রকল্পের খরচ যেখানে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকা, সেখানে রূপপুরে খরচ হয়েছে প্রায় ৯৬,০০০ কোটি টাকা। ভারতের ভুপেন হাজারিকা সেতু তৈরি হয়েছে ১৪,০০০-১৫,০০০ কোটি টাকায়, আর পদ্মা সেতুতে গেছে ৫৪,০০০-৫৬,০০০ কোটি টাকা।

বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে। এই বিশাল ঋণের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এই মেগা প্রকল্পগুলোর কারণেই।

প্রতিটি মিনিটে কত টাকা যাচ্ছে

বিষয়টা একটু টাকার হিসাবে ভাবি। টানেলটি প্রতি ঘণ্টায় লোকসান দিচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতিদিন ২৬ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকার বেশি। মাসে ৬ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৮ কোটি টাকা। বছরে ৭৫ থেকে ৯৬ কোটি টাকা।

এই টাকাগুলো দিয়ে কী হতে পারত? তারেক রহমানের কথাই ধার করি: “পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে আরও অনেক কিছু করা যেত।”

একই নদীতে সেতু থাকতে টানেল কেন

এই প্রশ্নটাই মূলত সবকিছুর কেন্দ্রে। কর্ণফুলীর উপর দিয়ে শাহ আমানত সেতু আগে থেকেই চালু ছিল এবং ভালোভাবেই কাজ করছিল। একই নদীতে সমান্তরালভাবে আরেকটি পারাপারের সুবিধা তৈরির কী যুক্তি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিক্রমা হতো আগে আনোয়ারায় শিল্প গড়ে তোলা, মানুষের বসতি বাড়ানো, তারপর চাহিদা অনুযায়ী টানেল বানানো। কিন্তু হয়েছে উল্টো। টানেল আগে বানানো হয়েছে, আর যে কারণে টানেল দরকার সেই কারণগুলো এখনও তৈরি হয়নি।

এখন সামনে কী

টানেলটি চালু আছে এবং বন্ধ করা তো আর সম্ভব নয়। কিন্তু জনগণের সামনে কিছু মৌলিক প্রশ্ন ঝুলে আছে।

দুদকের মামলায় অভিযুক্তরা কি আসলে সাজা পাবেন? আত্মসাৎ করা কোটি কোটি টাকা কি রাষ্ট্র ফেরত পাবে? টানেলের আয় বাড়ানোর কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা কি আছে? আর ভবিষ্যতে এ ধরনের মেগা প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত হবে?

উন্নয়নের নামে কী পেলাম আমরা?

কর্ণফুলী টানেল বাংলাদেশের জন্য একটি কড়া পাঠ। “মেগা উন্নয়ন” মানে জনকল্যাণ নয়। ঋণের টাকায় তৈরি অবকাঠামো যদি অর্থনৈতিকভাবে টিকতে না পারে, তাহলে সেটা আসলে উন্নয়ন নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের ঘাড়ে বোঝা চাপিয়ে দেওয়া।

এই টানেলটি দেখিয়ে দিয়েছে, বড় ঋণ, রাজনৈতিক প্রচার আর স্বচ্ছতার অভাব একসঙ্গে হলে একটি প্রকৌশলগত সাফল্যও কীভাবে আর্থিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।

জনগণের টাকায় বানানো এই টানেল প্রতিদিন জনগণের আরও টাকা গিলে খাচ্ছে। আর যারা দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, তাদের বিচার এবং সেই অর্থ উদ্ধার করাটা এখন শুধু দাবি নয়, দেশের প্রতি দায়।


সূত্র: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) অডিট রিপোর্ট, গণতার, ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক আজাদী, ফ্যাক্ট-ওয়াচ, টিবিএস নিউজ, দেশ রূপান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *