আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে নতুন সমীকরণ নিয়ে এগোচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াইয়ের জন্য দলের চারজন শীর্ষ নেতার নাম বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দলটির একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে নাকি জোটবদ্ধভাবে লড়াইয়ে নামবে, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। এর আগে গত শুক্রবার এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কৌশল ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সেরেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।
দক্ষিণ সিটিতে লড়াইয়ের কেন্দ্রে নাসীরুদ্দীন ও আসিফ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (DSCC) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন দুজন:
- আসিফ মাহমুদ: এনসিপির এই প্রভাবশালী মুখপাত্র নিজেই দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার জোরালো ভূমিকা থাকায় তাকে ঘিরে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন নেতা-কর্মীরা।
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: এর আগে ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন এবং নির্বাচনের বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
দলের ভেতরের গুঞ্জন অনুযায়ী, এই দুজনের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উত্তর সিটিতে আদিব ও আমিরুলের প্রস্তুতি
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও (DNCC) এনসিপির হয়ে মাঠে রয়েছেন দুই তরুণ নেতা:
- আরিফুল ইসলাম আদিব: এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা উত্তর ইউনিটের এই আহ্বায়ক মাঠপর্যায়ে বেশ সক্রিয়। গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে তিনি ১ লাখের বেশি ভোট পেয়ে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছিলেন।
- সরদার আমিরুল ইসলাম: ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব হিসেবে তিনিও নিজেকে এই আলোচনার দৌড়ে শক্তভাবে টিকিয়ে রেখেছেন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জোট ও জামায়াত প্রসঙ্গ
মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এনসিপির জোট সঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, ঢাকায় তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মেয়র পদগুলো এনসিপির মতো শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তারা এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।
বর্তমানে জোটের মধ্যে আলোচনা চললেও এবং তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
