প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকার একাডেমিক স্বাধীনতা দিতে চায়, তবে কোনোভাবেই সেগুলোকে ‘জঙ্গি তৈরির কারখানায়’ পরিণত হতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বনানীতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হলি আর্টিজানের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি নজরদারি ও রেগুলেশন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন:
“প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা স্বাধীনতা দিতে চাই। তবে এমন ফ্রিডম দিবো না, যাতে আবার হলি আর্টিজেন যেন না হয়। আমাদের এটা মনে রাখতেই হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জঙ্গি কারখানায় পরিণত হয়েছিলো। সরকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রেগুলেট করবে।”
স্বচ্ছতা ও সরকারি তদারকি
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, অনেক মালিক তাদের প্রতিষ্ঠানকে অলাভজনক দাবি করলেও প্রাপ্ত অর্থ কোথায় যায় তা অস্পষ্ট। তবে সরকার এই খাতের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এই খাতের সমস্যাগুলো শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
শিক্ষা খাতকে উপার্জনের মাধ্যম করার পরিকল্পনা
মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে একে একটি লাভজনক ও সম্মানজনক খাতে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি বলেন:
- “মালয়েশিয়া যদি রাতারাতি তাদের শিক্ষার পরিস্থিতি বদলাতে পারে, আমরা কেন পারব না? আমরা চাইলেই শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি উপার্জন করতে পারি। আমি নকল করব তাদের যারা ভালো করেছে।”
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর শিক্ষা প্রসারে ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান ১৬ দিন শিক্ষামন্ত্রী থেকে যত কাজ করেছেন, আমি ১৬ বছরেও তত কাজ করতে পারব না।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ এবং এপিইউবি চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা।
