২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ পালন করছে জাতি। বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীর সামরিক কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকীতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিগত ১৭ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়ই সশরীরে উপস্থিত হয়ে পিলখানার শহীদদের প্রতি সরাসরি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। ইতিপূর্বে রাষ্ট্রীয় এই দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বর পরিবর্তে সাধারণত তাঁদের প্রতিনিধি বা সামরিক সচিবরা এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেন।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা
সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বনানী সামরিক কবরস্থানে পৌঁছান। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রধানমন্ত্রী নিজে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।
এরপর সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক রীতিতে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
অন্যান্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন:
- সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
- নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
- বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয়জনদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
ইতিহাসের কালো অধ্যায়
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় এক ভয়াবহ নৃশংসতা চালানো হয়। এই বিদ্রোহে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে সেদিন পিলখানায় ৭৪ জন নিহত হন।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা শুরু হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন।
