এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সাবেক ছাত্রনেতা সরদার আমিরুল ইসলাম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (জেসিডি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত নেতা সাম্যের ভাই এবং সাবেক ছাত্রনেতা সরদার আমিরুল ইসলাম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

দলের আদর্শিক বিচ্যুতি, বিশেষ করে ডানপন্থী জোট ও রাজনীতির দিকে এনসিপির ঝুঁকে পড়ার বিষয়টিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দলটির সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরদার আমিরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, আরও আগেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন, তবে সে সময় তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

আদর্শিক বিচ্যুতি ও ডানপন্থার উত্থান

সরদার আমিরুল ইসলাম জানান, গত বছরের জুন মাসে একটি মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে দলের কিছু রাজনৈতিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত তাঁর মাঝে চরম দূরত্ব তৈরি করে।

“নির্বাচনকালীন সময়ে ডানপন্থী জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত আমার উৎসাহ উদ্দীপনাকে ম্রিয়মাণ করে,” বিবৃতিতে উল্লেখ করেন সরদার আমিরুল ইসলাম। “তবে এই সিদ্ধান্তকে রণকৌশল বিবেচনা করে জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দলের পক্ষে কার্যক্রম অব্যাহত রাখি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়েও দলে ডানপন্থার বাড়ন্ত লক্ষ্য করি।”

তিনি আরও জানান, দলের এই কৌশল ও নীতিগত পরিবর্তনের সাথে মতদ্বৈততা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুই মাস তিনি সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

“এনসিপির যে প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হয়ে আমি যুক্ত হয়েছিলাম, বর্তমানে দলের কার্যক্রমে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না,” উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গের এই পরিস্থিতিতে দলে থাকা আর সম্ভব নয় বলে জানান।


রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা

সরদার আমিরুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবনের এই মোড় পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পূর্বে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও এক পর্যায়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও তাঁর ভাই সাম্যের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পরই রাজনীতিতে তাঁর আকস্মিক প্রত্যাবর্তন ঘটে এবং তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। পরিবারটি ছাত্রদল তথা বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকা সত্ত্বেও, বিএনপির প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত এনসিপিতে সরদার আমিরুল ইসলামের যোগদান সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

এখন এনসিপি থেকে তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের পর, তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং এনসিপির অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *