রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী সোহেল রানা মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গণমাধ্যমের সামনে দুই ধরণের সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দিয়েছে। আদালতের বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত এবং ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই আসামী এমন নাটকীয় চাল চালছেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে সোমবার (১ জুন) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার চার্জ গঠনের দিন আদালতে নেওয়ার সময় সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলে, “আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার।” নিজের ওপর থেকে হত্যার দায় এড়াতে সে ‘ডলার’ নামের এক নতুন চরিত্রের অবতারণা করে।
কিন্তু ঠিক তার পরের দিন, আজ মঙ্গলবার (২ জুন) মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের সময়ে প্রিজন ভ্যানে ওঠার মুখে সে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর ধরে। নিজের আগের দিনের বক্তব্য সম্পূর্ণ গুলিয়ে ফেলে আজ সে চিৎকার করে বলে, “ডলার ধর্ষণ করেছে, আমি জবাই করছি, তাকে ধরেন।”
মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই মুখে দুই রকম স্বীকারোক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এই রহস্যময় ‘ডলার’ নামের ব্যক্তির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আসামী পক্ষের আইনজীবী জানান, মামলার নথিপত্রে বা তাদের জানা মতে ‘ডলার’ নামের কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা সোহেল রানার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ সাজানো এবং বিভ্রান্তিকর বলে নাকচ করে দিয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কাউকে ফাঁসাতে অথবা মামলার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করতে আসামী সোহেল রানা এই ‘ডলার’ নামটির অপব্যবহার করছে। এই লোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনার সাথে ডলার নামের আর কারো কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা তদন্তে পাওয়া যায়নি।
আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের ধারণা, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে সারা দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিচারের গতি দেখে চরম ভয় থেকেই আসামী পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরণের স্ববিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যেন বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত বা জটিল করা যায়। তবে এসব বিভ্রান্তি এড়িয়ে ট্রাইব্যুনাল দ্রুততম সময়ে বিচার কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
