জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে আশপাশে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন—

“ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

সিসিটিভিতে ধরা পড়ে ভয়ংকর মুহূর্ত

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই শিক্ষার্থী পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকে। পরে হঠাৎ ওই ব্যক্তি শিক্ষার্থীর গলায় দড়ির মতো কিছু পেঁচিয়ে তাকে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়।

তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন—

“আমরা কয়েকজন বাইকে করে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একজনের চিৎকার শুনতে পাই। সেখানে গিয়ে দেখি পাশের জঙ্গল থেকে এক মেয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় বেরিয়ে আসে। তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাটি ও ধুলা লেগে ছিল।”

তিনি আরও বলেন—

“আমি জিজ্ঞেস করলে ওই শিক্ষার্থী জানান, কেউ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলে ঢুকে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, কিন্তু অন্ধকারের কারণে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে নিরাপত্তা শাখায় খবর দেওয়া হয়।”

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, দ্রুত বিচারের দাবি

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী, জাকসুর নেতারা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালান।

প্রশাসনের বক্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন—

“আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছি, তবে তার পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। আমরা আশা করছি, অন্য কোনো ফুটেজে তার পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান—

“পুলিশকে বিষয়টি ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। অতি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *