যশোরের শার্শায় তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও পাশবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে আলম গাজী (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (২২ মে) সকালে উপজেলার সরুপদাহ গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে শনিবার (২৩ মে) রাত ১টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আলম গাজী শার্শার সরুপদাহ গ্রামের জহর গাজীর ছেলে।
‘কাঠি ভাজা’র প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতন
পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে শিশুটিকে ‘কাঠি ভাজা’ খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত টং ঘরে নিয়ে যায় আলম গাজী। সেখানে সে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে শিশুটির জামাকাপড় খুলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে মারাত্মক জখম করে।
পৈশাচিক এই নির্যাতনের শিকার শিশুটির আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে এলে অভিযুক্ত আলম গাজী তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত ব্যবস্থা
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, ঘটনাটি জানার পর এবং শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। রাত ১টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামি আলম গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
“প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও ভয়াবহতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” — মারুফ হোসেন, ওসি, শার্শা থানা
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক এবং দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
