রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার আগে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে ফরেনসিক, ডিএনএ এবং ভিসেরা রিপোর্ট।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পল্লবী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর আলামত গোপন ও প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ঘাতক তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর শরীর থেকে সংগৃহীত আলামতের সঙ্গে এই মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানার ডিএনএ-র শতভাগ মিল পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, এই চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফরেনসিক ও ডিএনএ তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন এবং আজ রবিবার (২৪ মে) বিকেলের মধ্যেই আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হতে পারে। চার্জশিটে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হচ্ছে।
মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গত ২০ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতিমধ্যেই সে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির (১৬৪ ধারা) অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে স্বীকার করেছে যে, ঘটনার দিন ইয়াবার নেশায় বুঁদ হয়ে সে শিশুটিকে ফুসলিয়ে ঘরে নিয়ে এই অপরাধ সংঘটিত করে।
তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, আসন্ন ঈদের ছুটির আগেই যদি চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়, তবে ঈদের পরপরই দ্রুততম সময়ে এই মামলার বিচার শুরু করা যাবে। সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, গত ২১ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি এক পাবলিক অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।
সন্তান হারানোর শোকে কাতর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমি অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।”
