কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে যাওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে (২৮) উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে অপহরণের কোনো প্রমাণ না পেয়ে উল্টো এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করার পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
পুলিশের তদন্ত ও ‘অপহরণ নাটক’ উন্মোচন: পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপরই তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে জেলা পুলিশের একাধিক দল।
অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে চাপ দিয়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটান। পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করার কথা বলে সম্মতি জানান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে জিসান নিজেই আত্মগোপনে চলে যান এবং ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় জিডি করান।
কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেল) খলিলুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন।
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলা: জিসান উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধানকে প্রধান আসামি করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত চলছে।
জামায়াত-শিবিরের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া: এর আগে জিসানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিবৃতিতে প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, একটি চক্র জিসানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে।
তবে আসল ঘটনা সামনে আসার পর ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, মেয়েঘটিত বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জিসানের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি আসলেই সাজানো কি না, তা সঠিকভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
