ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের দেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।
গত ৮ মার্চ এই মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এই তৃতীয় গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল।
যেভাবে ধরা পড়লেন ফিলিপ
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় এসটিএফ। সেখান থেকেই ফিলিপ সাংমাকে আটক করা হয়। ফিলিপ একজন বাংলাদেশি নাগরিক।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফিলিপ সাংমা দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পারাপারের অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত। শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে তিনি সরাসরি সহায়তা করেছিলেন। মূল আসামিরা গ্রেফতার হওয়ার পর ফিলিপ নিজেও আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু গোয়েন্দা নজরদারিতে শেষ রক্ষা হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান শরীফ ওসমান হাদি।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, ফয়সাল ও আলমগীরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফিলিপ সাংমার নাম উঠে আসে। ফিলিপকে বর্তমানে এসটিএফ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে আরও বড় কোনো প্রভাবশালী মহল বা অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
