বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দাবি করেছেন যে, সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনে তাঁর দল হারেনি, বরং সুপরিকল্পিতভাবে তাদের ‘হারিয়ে দেওয়া হয়েছে’।
আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরের মিরবক্সটুলা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘উপজেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচন ও অর্জনের মূল্যায়ন
নির্বাচনে দলের ফলাফল নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামীর জন্য এটি একটি বড় অর্জন। তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন আমাদের ক্ষতি হয়েছে কি না, কিন্তু বাস্তবে আমাদের অনেক লাভ হয়েছে। প্রথমত, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি অর্থবহ ঐক্য তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ আমাদের প্রধান বিরোধী দলের জায়গা দিয়েছেন।’+1
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তাদের ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরাল লড়াই করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যাদের ১০-১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারানো হয়েছে, তা ইচ্ছাকৃত। এমনকি কিছু জায়গায় ঘোষণার পরও ব্যবধান বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা লক্ষ্য করেছি।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জননিরাপত্তা
নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, তারা জামায়াতের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী অবস্থান নেয়নি। বরং বিভিন্ন স্থানে সাহায্যের প্রয়োজনে তারা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হতাশা কাটাতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির লড়াই আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কৌশল
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রার্থী দেওয়া হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে যারা জনপ্রিয়, তাদেরই সামনে আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আমাদের আমির বা সেক্রেটারি হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা স্বচ্ছ এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের জনগণের কাছে তুলে ধরব। একটি হলো দেশপ্রেম, আরেকটি হলো সততা—এই দুটি গুণ থাকলে আমাদের জন্য তা যথেষ্ট।’
