যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সামরিক সংঘাতের কারণে আকাশপথের অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতির জেরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথের যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। এই সংকটময় মুহূর্তে যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএপি সরকারের নির্দেশে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা এবং মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন।
বিএপি মন্ত্রীদের জরুরি পদক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে আফরোজা খানম রীতা এবং হুমায়ূন কবির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে জরুরি বৈঠক করেন। তারা বিমানবন্দর এলাকায় একটি কমান্ড সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দেন যাতে যাত্রীরা সরাসরি সহায়তা পেতে পারেন।
এ সময় আফরোজা খানম রীতা বলেন, “আমাদের সরকার প্রবাসীদের ও সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। বিএপি মন্ত্রী হিসেবে আমি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছি, এয়ারলাইন্সগুলোকে যেন মুনাফার চেয়ে যাত্রী সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কোনো যাত্রী যেন এই সংকটকালে অবহেলিত না হন, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিটি এয়ারলাইন্সকে জবাবদিহিতার আওতায় আনছি।”
উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির যাত্রীদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের মূল বার্তা হলো—কোনো যাত্রীকে অন্ধকারে রাখা যাবে না। আমরা সার্বক্ষণিক এয়ারলাইন্সগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। আন্তর্জাতিক এই সংঘাতের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।”
আঞ্চলিক সংকটে ফ্লাইট স্থগিত
ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতের ফলে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মন্ত্রণালয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। আকাশসীমা নিরাপদ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
যাত্রীদের জন্য সরকারি নির্দেশনা
বিএপি সরকারের জরুরি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় যাত্রীসাধারণের জন্য নিম্নোক্ত নির্দেশনাগুলো জারি করেছে:
- বিমানবন্দরে ভিড় না করা: ফ্লাইট নিশ্চিত না হয়ে কোনো যাত্রী যেন বিমানবন্দরে না আসেন।
- সরাসরি যোগাযোগ: টিকিটের রিফান্ড বা ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণের জন্য শুধুমাত্র এয়ারলাইন্সগুলোর অফিসিয়াল হটলাইন বা ওয়েবসাইটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।
- আপডেট থাকা: পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে সরকারি ও মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য ঘোষণার দিকে নজর রাখুন।
