ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা আজ বুধবার বিকেলে এক মর্মান্তিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। বিকেল ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামলাকারী ফজলু সমাজকল্যাণ বিভাগেরই একজন প্রাক্তন কর্মচারী। বেতন সংক্রান্ত জটিলতা এবং সম্প্রতি তাঁকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে হামলাকারী নিজেও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য জানান, হঠাতই ওপর থেকে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে তাঁরা ওপরে ছুটে যান। দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, আসমা সাদিয়া রুনা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং হামলাকারী ফজলু নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছেন।
ঘটনার পর সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে প্রায় দুমাস আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়েছিল, যা তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি আরও জানান, “উনি প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকের কর্মচারী ছিলেন, এই বিভাগকে নিজের মনে করতেন। আমরা কখনোই ভাবিনি উনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবেন।”
এদিকে, এই ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সময় বিভাগীয় কার্যালয়ে শিক্ষক বা অন্য কোনো কর্মচারী উপস্থিত না থাকার সুযোগ নিয়ে হামলাকারী রুমে প্রবেশ করে দরজা আটকে দেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
