আগামীকাল থেকে জ্বালানি তেলের রেশনিং থাকছে না: স্বাভাবিক হচ্ছে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ

জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার

সারাদেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামীকাল থেকে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি চলবে।

মূলত আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করতেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামীকাল সকালেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

“আপাতত ঈদ উপলক্ষে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেশনিং প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে,” বলেন মনির হোসেন চৌধুরী। “পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি স্বাভাবিক থাকবে।”


রেশনিংয়ের প্রেক্ষাপট

ইরান যুদ্ধের আশঙ্কায় গত ৬ মার্চ থেকে সারাদেশে তেলের রেশনিং শুরু করেছিল সরকার। ওই সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক তৈরি হলে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনা শুরু করেন। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতেই তখন এই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।

রেশনিং চলাকালীন তেলের সীমা ছিল নিম্নরূপ:

  • মোটরসাইকেল: দৈনিক ২ লিটার (পরবর্তীতে রাইডশেয়ারিংয়ের জন্য ৫ লিটার করা হয়)।
  • এসইউভি ও মাইক্রোবাস: ২০ থেকে ২৫ লিটার।
  • পিকআপ বা লোকাল বাস: ৭০ থেকে ৮০ লিটার।
  • দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক: ২০০ থেকে ২২০ লিটার।

সম্প্রতি রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনা হলেও, ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপের কথা বিবেচনা করে এখন তা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *