জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিয়েছেন। অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নিজের বিদায়ী বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ তাঁর এই দায়িত্বকালকে একটি ‘উদ্ধারকারী মিশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার
বিদায়ী বক্তব্যে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কোনো সময়ে আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলে আমাকে জানান।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোনো ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দেননি, আবার কারো অসুবিধাও করেননি। উল্লেখ্য, তাঁর দায়িত্বকালে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণের অভিযোগ তুলেছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অসত্য বয়ানকারী ও চরিত্রহননকারীদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই।’
স্থিরতা ও উন্নয়নের খতিয়ান
২০২৪ সালের আগস্টে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) থেকে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের এই অধ্যাপক। তিনি জানান, এক আপৎকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তিনি এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামো প্রায় ভেঙে পড়েছিল।
তাঁর দায়িত্বকালের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ:
- অবকাঠামো উন্নয়ন: প্রায় ২,৮৪১ কোটি টাকার ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ, যার আওতায় নতুন আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবন নির্মাণাধীন।
- র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি: কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮৪তম স্থান অর্জন।
- শিক্ষার্থী কল্যাণ: হলের ‘গণরুম প্রথা’ বিলুপ্তি, শাটল বাস সার্ভিস চালু এবং মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন।
- প্রশাসনিক সংস্কার: স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ৬৯ জন প্রভাষক নিয়োগ এবং সফলভাবে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করা।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপনায় ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ নতুন প্রশাসনের জন্য তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন: ১. চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন। ২. প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। ৩. আবাসিক হলে দখলদারত্ব ও গণরুম প্রথার পুনরাবৃত্তি রোধ করা।
বক্তব্যের শেষে তিনি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক দিন কঠোর পরিশ্রম করেছি, এখন আমার কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন।’ তিনি নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।
সোর্সঃ প্রথম আলো
