দিনাজপুর দেশের কৃষি বিপ্লব এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকট নিরসনে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই কৃষিখাতে পানির গুরুত্ব এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন:
“দিনাজপুর কৃষি অঞ্চল, আমরা এখান থেকেই খাল খনন শুরু করেছি। কারণ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। সে কারণে জমি আবাদে সমস্যা হচ্ছে, পানিতে আয়রন বাড়ছে। বর্ষার পানি ধরে রেখে আমরা কাজে লাগাতে চাই।”
দেশের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানের জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা ও ধৈর্য কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন:
“নির্বাচনের সময় সারা বাংলাদেশ যখন ঘুরেছি, একটি কথা বেশির ভাগ মানুষ বলেছেন—দীর্ঘ ১৫ বছরে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেভাবে এগিয়ে যায়নি। কাজেই আমি আপনাদের বলব, দেশকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে সবাই মিলে কাজ করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। কারণ গত ১৫-১৬ বছরে যে কাজগুলো হয়নি, আমরা সেগুলো ১৫-১৬ মাসে করতে পারব না।”
সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন:
“যারা এই সরকারকে ভোট দিয়েছেন, যারা এই সরকারকে ভোট দেননি—তাদের সবার সরকার এই সরকার। আপনাদের প্রত্যাশা নিয়ে এই সরকার কাজ করবে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে নির্বাচনের আগে যে কথা দিয়েছিলাম, এক মাসের মধ্যে সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি।”
ফ্যামিলি কার্ডের স্বচ্ছতা ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন:
“আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছি, এটা মন্ত্রী-এমপি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সবাই পাবেন। কিন্তু কাদের আগে পাওয়া উচিত আমরা সবাই বুঝি। সব এমপি বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন, আমরা সেগুলো ক্রমান্বয়ে সমাধান করব।”
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উত্তরবঙ্গের কৃষি উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
