কুমিল্লা-৪ আসনের ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি ক্ষমতাসীনরা মেজরিটির বড়াই করে রাষ্ট্র সংস্কার থেকে পিছিয়ে যায়, তবে চব্বিশের মতো আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি যেকোনো সময় শুরু হবে।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপটির বিষয় ছিল ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ/প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’।
ফ্যাসিবাদ ব্যক্তির নাম নয়, একটি ব্যবস্থার নাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য হয়নি, বরং হয়েছিল রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“যদি আগের সিস্টেম অক্ষুণ্ণ রাখা হয়, তবে যেকোনো ব্যক্তিই পরবর্তী সময়ে হাসিনা হয়ে উঠতে পারে। হাসিনা কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং অনেকগুলো ফ্যাসিবাদী আইডিয়ার সমষ্টি।”
বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ
হাসনাত আবদুল্লাহ মানবাধিকার কমিশনকে মন্ত্রণালয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের অধীনে রাখার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ যথাযথভাবে কার্যকর না হয়, তবে জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার মতো বিষয়গুলোর তদন্তের ভার পুলিশের হাতেই থাকবে। এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা
সংলাপে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর-আল-মতিন বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ খুব দ্রুত পাস হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী আইনটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে। তিনি গুম বন্ধের ম্যান্ডেট রক্ষায় সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার বিভাগ স্বাধীন করার আহ্বান জানান।
ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় এ নাগরিক সংলাপে আরও বক্তব্য দেন:
- ডিলারা চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী
- শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী
- সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
- মুজিবুর রহমান, চেয়ারম্যান, এবি পার্টি
বক্তারা সম্মিলিতভাবে বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন না হলে জাতি আবারও অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। তারা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
