কুমিল্লার চান্দিনায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে স্বামীকে আটকে রেখে ২৭ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী এক সন্তানের জননী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— চান্দিনা উপজেলার মাদারপুর গ্রামের মো. আশিক (৩১), কামারখোলা গ্রামের মেহেদী হাসান ওরফে তারেক (২৪), একই গ্রামের মো. আরিফ (৩৪) এবং মো. ইসমাইল (৩৭)।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পাশের বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা ওই দম্পতি রবিবার রাত ৯টার দিকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে চান্দিনায় এক আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১০টার দিকে মাদারখোলা এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটির চার্জ শেষ হয়ে যায়। এরপর তারা গাড়িটি ঠেলে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলে তিন যুবক এসে তাদের পথ রোধ করে।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, “মোটরসাইকেলে আসা তিনজন আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করে এবং ফোন করে আরও দুজনকে ডেকে আনে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আমার স্ত্রীকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি ক্ষেতে নিয়ে যায়। আমাকে অন্য জায়গায় নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সুযোগ বুঝে আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ দ্রুত এসে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে।”
আইনি ব্যবস্থা ও বর্তমান অবস্থা
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় সংঘবদ্ধ ওই চক্রের পাঁচজন জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে চারজনকে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন এবং আটককৃতদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারী অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
