সিলেটে ৪ বছরের শিশু হত্যা: ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে খুনের স্বীকারোক্তি, প্রতিবেশী গ্রেপ্তার

সিলেট সদর উপজেলায় ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা ও পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন।

নিহত শিশুটি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা। গত বুধবার নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শুক্রবার (৮ মে) তার বাড়ির কাছের একটি গর্ত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার

গত সোমবার রাতে (১১ মে) জালালাবাদ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটির প্রতিবেশী ও সম্পর্কে দূরসম্পর্কের চাচা জাকির হোসেনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে মরদেহ পেঁচিয়ে রাখা ওড়নাটিও রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, জাকির শিশুটিকে ফুসলিয়ে তার জনশূন্য ঘরে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আতঙ্কিত হয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি।

জবানবন্দি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও

পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত জানান, হত্যার পর তিনি মরদেহটি প্রথমে নিজের ঘরের একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখেন। পরে লাশে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে বাদাঘাট এলাকার একটি গর্তে ফেলে আসেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাকির নামে এক ব্যক্তি এই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন এবং দাবি করছেন যে অপরাধের সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তবে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিডিওটি কীভাবে রেকর্ড বা ছড়িয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত নয় এবং এর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

জনরোষ ও আইনি পদক্ষেপ

এই নৃশংস ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। শত শত গ্রামবাসী জালালাবাদ থানার সামনে জড়ো হয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষুব্ধ জনতা জাকির হোসেনের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে বলেও জানা গেছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মঞ্জুরুল আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন:

“প্রধান অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ বিকেলে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করব।”

নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন এবং জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *