বগুড়ার শাজাহানপুরে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। গত এক মাস ধরে চলা এই চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে সোমবার রাতে শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক কৃষক।
অভিযুক্ত নেতারা হলেন— উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিন।
চাঁদাবাজির ধরণ
উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাবীব আব্বাসী জানান, জমিতে আলু বস্তায় ভরার সময় কিংবা ট্রাকে লোড করার সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচয় দিয়ে একদল যুবক সেখানে হাজির হয়। এরপর ট্রাক আটকে বস্তাপ্রতি ২০ টাকা হারে চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ট্রাক ছাড়তে বাধা দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগ নেতারা একইভাবে ফসলের মাঠে চাঁদাবাজি করত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুতে এটি বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ভাঙিয়ে একই কায়দায় আবারও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে।
বীরগ্রামে ধাওয়া খেলেন নেতারা
গত রোববার সন্ধ্যায় মেহেদী হাবীব আব্বাসী হিমাগারে আলু নেওয়ার পথে বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাক থামিয়ে চাঁদা দাবি করেন আইয়ুব আলী, কামরুল হাসান মোমিন ও শহীদ হোসেনসহ কয়েকজন। কৃষক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে তুলে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী তাজনুর ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম আপেলসহ স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে চাঁদাবাজদের ধাওয়া করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য
মঙ্গলবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আইয়ুব আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তবে শাজাহানপুর থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “চাঁদাবাজির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল বলেন, “দলের কেউ চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলে এবং প্রমাণ পেলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।”
