জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দেওয়া দায়মুক্তির (ইনডেমনিটি) বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিপ্লবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া জাতীয় ঐক্যের স্বার্থেই প্রয়োজন।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশ, নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘন বনাম ঐতিহাসিক ব্যতিক্রম
অভ্যুত্থান চলাকালীন কিছু ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যারা মামলা করার দাবি তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একটি জোরালো তুলনা টেনে বলেন:
“রাষ্ট্রীয় বাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের গুলিতে ১৪০০ জনের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছে। এখন যারা এই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তাদের হাতে যদি কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়ে থাকে—তবে সব কিছুকে আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলতে পারব না। আমাদের অবস্থান হলো, আমরা জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়েছি। এটাতে আমাদের জাতীয়ভাবে সম্মত থাকতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যদি জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া যায়, তাহলে রাজাকার হত্যার দায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধেও মামলা করতে দিতে হবে। সুতরাং এক্সেপশন (ব্যতিক্রম) সব জায়গায় আছে, আমরা সব কিছুকে হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন বলতে পারব না।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, লাখ লাখ মামলার মধ্য দিয়ে দেশে শান্তি আনা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদের পতনের পর যে নৈরাজ্য বা হিংসা-প্রতিহিংসার আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা মোকাবিলা করতেই এই ইনডেমনিটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন
দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচারের জন্য সরকার একটি ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ (জাতীয় পুনর্মিলন কমিশন) গঠন করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন:
“আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ মাথায় রেখেছিলাম। সেখানে ট্রুথ কমিশন হয়েছিল। আমাদের এখানে হয়তো ‘হাফ ট্রুথ কমিশন’ হবে। তবে জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের এই কমিশন গঠন করতেই হবে।”
ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তির এই সিদ্ধান্ত কোনো অন্যায়ের প্রশ্রয় নয়, বরং একটি বৃহত্তর জাতীয় বিপ্লবকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রচেষ্টা। ২০২৬ সালের সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় এই ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’দের সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে যাতে করে দেশ পুনর্গঠনের কাজ নির্বিঘ্ন হয়।
অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন সংসদের কাছে মানবাধিকার সুশাসনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।
