মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চাপ: অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ (১১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজির (LNG) দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে এই বর্ধিত ব্যয় মেটাতে হবে, যা সরকারের নির্ধারিত বাজেটের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপ

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, তার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় এই যুদ্ধ শুরু হয়, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, “এর ফলে একদিকে যেমন বাজেট ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয়ের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।”

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:

  • জ্বালানি সাশ্রয়: দেশজুড়ে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • বিকল্প উৎস: জ্বালানি আমদানির জন্য বিকল্প দেশ বা সরবরাহকারী খোঁজা হচ্ছে।
  • আন্তর্জাতিক সহায়তা: উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তার (Budgetary Support) উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও জনসাধারণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান যে, ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটের প্রতি জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে এবং সরকার একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *