মাঠে যে পটোল কৃষক বিক্রি করছেন ৫৬ টাকা কেজি দরে, কয়েক হাত ঘুরে ঢাকার সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে পৌঁছাতে সেই পটোলের দাম হয়ে যাচ্ছে ১০০ টাকার বেশি। যশোরের বারীনগর পাইকারি মোকাম থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭০ কিলোমিটারের এই যাত্রায় ধাপে ধাপে বাড়ছে দাম।
যেভাবে বাড়ে দাম
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কৃষকের হাত থেকে ভোক্তার থালা পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি পটোলকে অন্তত পাঁচবার হাতবদল হতে হয়। প্রতিবার হাতবদলে দাম বাড়ে ৮ থেকে ১০ টাকা।
- প্রথম ধাপ: বারীনগর মোকামে কৃষক আরিফুল ইসলাম বা তাঁর মতো চাষিরা ৫৫-৫৬ টাকা দরে ব্যাপারীদের কাছে পটোল বিক্রি করেন।
- পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ: ব্যাপারী আতিয়ার রহমান জানান, প্রতি কেজি সবজি ঢাকা পাঠাতে পরিবহন, বস্তা, লেবার এবং হাটের খাজনা মিলিয়ে প্রায় ৮ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়।
- আড়ত ও ফড়িয়া: যাত্রাবাড়ী পৌঁছানোর পর আড়তদারি খরচ এবং ফড়িয়াদের হাতবদলে আরও ৩-৪ টাকা যোগ হয়।
- খুচরা পর্যায়: পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে যখন খুচরা বিক্রেতা কেনেন, তখন দোকান ভাড়া এবং নষ্ট হওয়া সবজির হিসাব মিলিয়ে দাম আরও বেড়ে যায়।
পথে পথে বাধা ও খরচ
যশোর থেকে ঢাকাগামী সবজির ট্রাকের সাথে সরেজমিনে দেখা গেছে, নড়াইল পৌরসভা এলাকায় টোলের নামে রশিদ ধরিয়ে ট্রাক থামিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া মধুমতী ও পদ্মা সেতুসহ চারটি স্থানে টোল দিতে হয়। তবে যাত্রাবাড়ী বাজারে এখন রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাঁদাবাজির প্রভাব আগের চেয়ে কম বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
কৃষকের নাভিশ্বাস
কৃষক আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁরা সরকারি দামে সার বা কীটনাশক পান না। স্থানীয় দোকান থেকে বেশি দামে উপকরণ কিনতে হওয়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। অথচ সেই তুলনায় ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তাঁরা।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার যদি সরাসরি কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে সবজি বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে পারে, তবেই সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: এই প্রতিবেদনটি প্রথম আলো-র সরেজমিন অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।
