আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বইছে মনোনয়ন যুদ্ধের হাওয়া। এর মধ্যেই রাজনৈতিক এবং সচেতন মহলে একটি নাম জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে—তিনি তাসলিমা আখতার।
বিখ্যাত আলোকচিত্রী, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা এবং পোশাক শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের পরিচিত মুখ তাসলিমা আখতারকে ঘিরে গুঞ্জন রয়েছে যে, তিনি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে পারেন। যদিও তার পারিবারিক পরিচয় তিনি বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি’র স্ত্রী, তবে রাজপথে তার পরিচয় একজন আপসহীন জননেত্রী হিসেবেই।
শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর: রানা প্লাজা থেকে রাজপথ
তাসলিমা আখতারের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তবে তিনি দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে পরিচিতি পান ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর। তার তোলা সেই বিখ্যাত ছবি ‘শেষ আলিঙ্গন’ (Final Embrace) বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের করুণ পরিস্থিতির কথা।
তিনি কেবল ছবি তুলেই থেমে থাকেননি, বরং ‘গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে পোশাক খাতের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তার অনবদ্য অবদান তাকে গত বছর সম্মানজনক ‘বেগম রোকেয়া পদক ২০২৪’ এনে দিয়েছে।
নির্বাচনী যাত্রা ও রাজনৈতিক অবস্থান
উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে তাসলিমা আখতার ঢাকা-১২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে তিনি তার রাজনৈতিক দল গণসংহতি আন্দোলনের ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান। যদিও সেই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ ভিন্ন ছিল, তবে তার প্রচারণায় প্রাধান্য পেয়েছিল সাধারণ মানুষের আবাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরির দাবি।
কেন তাকে নিয়ে গুঞ্জন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও এর মিত্র জোটের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমন কাউকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে যারা রাজপথে সক্রিয় এবং যাদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাসলিমা আখতারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তাকে এই দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রাখছে।
ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি,মশিউর রহমান খান রিচার্ড বলেন। “তিনি বরাবরই ‘কথা কম, কাজ বেশি’ নীতিতে বিশ্বাসী একজন মানুষ। লোকদেখানো প্রচারণার চেয়ে কাজের মাধ্যমেই তিনি বারবার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা, সংসদ হোক সাধারণ মানুষের কথা বলার জায়গা। আর সেই পার্লামেন্টকে জনস্বার্থে কেন্দ্রে পরিণত করতে লিমা আপার মতো জোরালো ও সৎ কণ্ঠের কোনো বিকল্প নেই।”
তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন কার ভাগ্যে জুটবে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তাসলিমা আখতারের মতো একজন সংগঠক যদি সংসদে যান, তবে তা দেশের নারী নেতৃত্ব এবং শ্রমিক আন্দোলনের জন্য একটি ইতিবাচক মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
