দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিগত সরকারের আমলে তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
প্রধান অভিযোগসমূহ
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, এই শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে:
- জলসিঁড়ি আবাসন ও আর্থিক দুর্নীতি: জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প থেকে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ এবং শেয়ার বাজারের কারসাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
- আয়নাঘরের রূপকার: তাকে অত্যন্ত বিতর্কিত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এর অন্যতম রূপকার হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ডিজিএফআই-কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার এবং গুম-খুন ও নির্যাতনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
- জঙ্গি নাটকের প্রবক্তা: রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সাজানো ‘জঙ্গি নাটক’ বা পরিকল্পিত অপারেশন পরিচালনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে।
- সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে আঁতাত: অভিযোগ রয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রভাব ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
আইনি পদক্ষেপ
এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা আদালত মামুন খালেদ এবং তার স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, গত সরকারের আমলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবেই এই গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়েছে।
